ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান ইয়োসি কোহেন দাবি করেছেন, ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় তাদের গোয়েন্দারা অতীতে ‘অনেকবার’ গিয়েছিলেন। স্থাপনাটি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে ধারণা পেতেই এসব সফর করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। ইসরায়েল গত বছরের জুনে তাদের প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দুর্বল করাই ওই অভিযানের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল। ইসরায়েলের দাবি ছিল, এসব কর্মসূচি তাদের জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ তৈরি করছে। ১২ দিন ধরে চলা ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রও সাময়িকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী উন্নত যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোর একটি সম্মেলনে কোহেন বলেন, স্থাপনাটি সম্পর্কে বোঝার জন্য আমরা ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাটি অনেকবার ঘুরে দেখেছি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এসব সফর ঠিক কখন হয়েছিল কিংবা কারা সেখানে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কোহেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোহেন আরও মন্তব্য করেন, আমেরিকানদের ওই স্থাপনায় বোমা হামলা ছিল আমার সব স্বপ্ন পূরণের মতো। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া আলোচনাতেও এই কর্মসূচি অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান যুদ্ধ শুরু করে। তবে তেহরান বরাবরই পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কোহেন ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মোসাদের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সুদানও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দেশটিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন বা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ২০২০ সালে ইরানের পারমাণবিক বিজ্ঞানী মোহসেন ফখরিজাদেহ হত্যার সঙ্গেও কোহেনের নাম জড়িয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। মোসাদের প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার পরও জনসম্মুখে সক্রিয় রয়েছেন কোহেন। তিনি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত সাক্ষাৎকার দিয়ে আসছেন এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিতে প্রবেশের সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি রাজনীতিতে সরাসরি যোগ দেননি। সূত্র: এএফপি এমএসএম