জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সরকারি দলকেই প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন এবং জুলাই সনদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিয়ে নতুন বাংলাদেশে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা ও স্মরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আরও পড়ুন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও ‘ভুয়া’ স্লোগান অত্যন্ত দুঃখজনক নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের শহীদ এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব শহীদ ও আহত ব্যক্তিকে দ্রুত সরকারি গেজেটভুক্ত করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সরকারি দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক মতামত ও গণসমর্থন রয়েছে- এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সবার মতামত ও রাজনৈতিক অধিকারকে সম্মান জানিয়ে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হবে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জামায়াতের এ নেতা বিভেদের পরিবর্তে ঐক্যের রাজনীতিতে সবাইকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। আরও পড়ুন রক্তাক্ত জুলাইয়ের ২ বছর / মুরাদপুরে থেমে আছে সেই বিকেল, রক্তাক্ত স্মৃতি আর স্বজনহারাদের অপেক্ষা আদিবাসী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করা প্রয়োজন। আগামী ৯ আগস্টকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে সরকারকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যের শেষে নজরুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্র ও জনগণকে সম্মিলিত কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য ও কোতোয়ালি থানা সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদ, সহকারী সেক্রেটারি আ ন ম জোবায়ের এবং লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কামরুল হুদাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। এমআরএএইচ/কেএসআর